বাংলাদেশের সংবিধান এবং সরকার সাজেশন ২০২৬ | বিষয় কোড: 411911 | NU Masters Preliminary To Masters Final Suggestion PDF
📘 বাংলাদেশের সংবিধান এবং সরকার (বিষয় কোড: 411911)
🎯 প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩ (অনুষ্ঠিত: ২০২৬)
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বাংলাদেশের সংবিধান এবং সরকার (411911) কোর্সের গুরুত্বপূর্ণ ক-বিভাগ, খ-বিভাগ ও গ-বিভাগের সাজেশন, বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষায় আসার সম্ভাব্য প্রশ্নসমূহ নিয়ে এই পোস্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।
📌 Short Description
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (NU) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের সংবিধান এবং সরকার (411911) বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ সাজেশন। এখানে অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, রচনামূলক প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ নোট এবং পরীক্ষায় কমন উপযোগী টপিকসমূহ একত্রে দেওয়া হয়েছে।
🚀 Call To Action
বাংলাদেশের সংবিধান এবং সরকার (411911) সহ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সকল বিষয়ের PDF, সাজেশন ও নোট পেতে এখনই WhatsApp-এ যোগাযোগ করুন।
📲 Get All Subject PDF Here
🏛️ প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩
(অনুষ্ঠিত: ২০২৬)
- বিভাগঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞান
- বিষয়ঃ বাংলাদেশের সংবিধান এবং সরকার (বিষয় কোড: 411911)
📝 ক-বিভাগ (অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
১। পূর্ণরূপ লিখ- CAG, ECNEC, EVM, RPO।
- CAG: Comptroller and Auditor General.
- ECNEC: Executive Committee of the National Economic Council.
- EVM: Electronic Voting Machine.
- RPO: Representation of the People Order.
২। বাংলাদেশ
সংবিধানের অনুচ্ছেদ কয়টি?
- উঃ বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩টি ধারা বা অনুচ্ছেদ
আছে।
৩। "Constitution is the way of
life, the state has chosen for itself." কে বলেছেন?
- উঃ গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
৪। বাংলাদেশের প্রথম
প্রধানমন্ত্রী কে?
- উঃ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন
আহমদ।
৫। একটি মন্ত্রণালয়ের
রাজনৈতিক প্রধান কে?
- উঃ মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক প্রধান হলেন মন্ত্রী।
৬। মন্ত্রিসভার মোট
সদস্যের সর্বোচ্চ কত ভাগ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকতে পারে?
- উঃ এক-দশমাংশ (১০%)।
৭। কতজন সদস্য নিয়ে
জাতীয় সংসদের কোরাম গঠিত হয়? অথবা, সংসদে কোরাম হয়
কত জনে?
- উঃ ৬০ জন।
৮। বাংলাদেশের
সর্বোচ্চ আদালতের নাম কী?
- উঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোড়্ট।
৯। সুপ্রিম কোড়্টের
বিচারকদের অবসরের বয়সসীমা কত?
- উঃ ৬৭ বছর।
১০। বাংলাদেশের
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয় কবে?
- উঃ ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
১১। দুটি সাংবিধানিক
সংস্থার নাম উল্লেখ কর।
- উঃ দুটি সাংবিধানিক সংস্থার নাম হলো- ১. বাংলাদেশ
সরকারি কর্ম কমিশন ও ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
১২। নির্বাচন
কমিশনারদের নিয়োগ দেন কে?
- উঃ রাষ্ট্রপতি।
১৩। জাতীয় সংসদের
সভাপতি কে?
- উঃ মাননীয় স্পিকার।
১৪। মন্ত্রিসভা কার
নিকট দায়ী থাকে?
- উঃ মন্ত্রিসভা জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
১৫। জাতীয় সংসদের
দুটি অধিবেশনের সাথে সর্বোচ্চ বিরতিকাল কত?
- উঃ ৬০ দিন।
১৬। রাষ্ট্রের প্রধান
আইন কর্মকর্তার পদবি কী?
- উঃ এটর্নি জেনারেল।
১৭। রাষ্ট্রপতি কার
নিকট পদত্যাগ করেন?
- উঃ রাষ্ট্রপতি মাননীয় স্পিকারের নিকট পদত্যাগ করেন।
১৮। বাংলাদেশের
আইনসভার ইংরেজি নাম কী?
- উঃ বাংলাদেশের আইনসভার ইংরেজি নাম হলো হাউজ অব দ্য
নেশন (House of the Nation)।
১৯। বাংলাদেশ সংবিধান
কত তারিখে গৃহীত হয়েছে? অথবা, বাংলাদেশের
সংবিধান গৃহীত হয় কবে?
- উঃ ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে।
২০। 'Ombudsman'-এর
অর্থ কী?
- উঃ 'Ombudsman'-এর অর্থ ন্যায়পাল।
২১। মৌলিক অধিকার কী?
- উঃ মৌলিক অধিকার হলো নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির
জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে प्राप्त এবং সরকারের
নিকট অলঙ্ঘনীয়।
২২। সরকারের অঙ্গ
কয়টি?
- উঃ সরকারের অঙ্গ তিনটি।
২৩। বাংলাদেশ সংবিধান
কত তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে?
- উঃ বাংলাদেশ সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে
কার্যকর হয়েছে।
২৪। বাংলাদেশের
বর্তমান প্রধান বিচারপতি কে?
- উঃ সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
২৫। বাংলাদেশ জাতীয়
সংসদের "হুইপ" কী?
- উঃ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে কয়েকজন
হুইপ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়, যারা আইনসভার অধিবেশনে
সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি অধিবেশনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে
স্পিকারকে সহায়তা করেন।
২৬। এটর্নি জেনারেলকে
কে নিয়োগ দেন?
- উঃ রাষ্ট্রপতি।
২৭। বিপিএসসি (BPSC) কোন
ধরনের প্রতিষ্ঠান?
- উঃ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
২৮। জাতীয় সংসদের
মেয়াদকাল কত?
- উঃ ৫ বছর।
২৯। অধ্যাদেশ জারি
করতে পারে কে?
- উঃ মহামান্য রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
৩০। বাংলাদেশের
সংবিধানের মূলনীতি কয়টি?
- উঃ চারটি।
৩১। বাংলাদেশের
নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা কত?
- উঃ ৫ জন।
৩২। বাংলাদেশে সংসদীয়
সরকার ব্যবস্থা প্রথম কার্যকর হয় কবে?
- উঃ ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি।
৩৩। অধ্যাদেশ কী?
- উঃ দেশে যখন পার্লামেন্ট থাকে না তখন রাষ্ট্রপতি
নির্বাহী আদেশে যে আইন জারি করেন তাকে অধ্যাদেশ বলে।
৩৪। 'টেকনোক্র্যাট
মন্ত্রী' কারা?
- উঃ সংসদ সদস্য না হয়েও যারা মন্ত্রী হন তাদেরকে
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বলা হয়।
৩৫। ন্যায়পাল কী?
- উঃ সরকার, মন্ত্রণালয় অথবা সরকারি কোনো
প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করার জন্য
পার্লামেন্ট কর্তৃক নিয়োজিত কমিশনার বা কর্মকর্তাকে ন্যায়পাল বলে।
৩৬। শাসন বিভাগ কী?
- উঃ রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাজের জন্য, সর্বোচ্চ
পর্যায় থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়োজিত সকল কর্মচারী কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত
সংগঠনকে शासन বিভাগ বলে।
৩৭। কোন ঘটনার
মাধ্যমে মৌলিক অধিকার রহিত করা হয়?
- উঃ জরুরি আইন বা জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে।
৩৮। সংবিধান রচনা
কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য কে ছিলেন?
- উঃ বেগম রাজিয়া বানু।
৩৯। সংবিধান
প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি কয়টি ও কি কি?
- উঃ ৪টি। যথা- ১. অনুমোদন, ২.
আলাপ-আলোচনা, ৩. ক্রমবিবর্তন ও ৪. বিপ্লব।
৪০। সংবিধান কি?
- উঃ সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মাবলি যার
মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
📂 খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)
- ১। 'সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল' কী? সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ পদ্ধতি লেখ।
- ২। বেসামরিকীকরণ
প্রক্রিয়া ও যুদ্ধ অপরাধ বলতে কী বুঝ?
- ৩। political জোট বলতে কী বুঝ?
- ৪。 অনাস্থা
প্রস্তাব কী? জাতীয় সংসদের গঠন বর্ণনা কর।
- ৫। সরকারি বিল ও
বেসরকারি বিলের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।
- ৬। বাংলাদেশের
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে লেখ।
- ৭। অস্থায়ী সংবিধান আদেশ কী? বাংলাদেশ
সংবিধানের সংশোধন পদ্ধতি বর্ণনা কর।
- ৮। অর্থ বিল কী? রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ
সম্পর্কে লিখ।
- ৯। কার্যপ্রণালি বিধি বলতে কী বুঝ? বাংলাদেশের
দলীয় ব্যবস্থার পাঁচটি বৈশিষ্ট্য লিখ।
১০। দ্বাদশ সংশোধনের
বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
- ১১। সাংবিধানিক
সরকার ও মানবাধিকার বলতে কী বুঝ?
- ১২। বাংলাদেশের
সংবিধানের বৈশিষ্ট্য লিখ।
- ১৩। সংবিধানে-উল্লিখিত
পাঁচটি মৌলিক অধিকার উল্লেখ কর।
- ১৪। বাংলাদেশের
সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কী কী?
- ১৫। জাতীয় সংসদের
স্পীকার নির্বাচন পদ্ধতি লিখ।
📂 গ-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)
- ১। গণপরিষদ কী? বাংলাদেশে political
দলব্যবস্থার প্রকৃতি বর্ণনা কর।
- ২। ১৯৭২ সালের
সংবিধানের ও বর্তমান বাংলাদেশ সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ কর।
- ৩। বাংলাদেশের
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা কর।
- ৪। বাংলাদেশের
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।
- ৫। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কী? বিচার
বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায়সমূহ আলোচনা কর।
- ৬। বাংলাদেশ সরকারি
কর্মকমিশনের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা কর।
- ৭। এটর্নি
জেনারেলের দায়িত্ব ও কর্তব্য আলোচনা কর।
- ৮। বাংলাদেশের
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা কর।
- ৯। বাংলাদেশ সরকারী
কর্মকমিশনের লোক নিয়োগ পদ্ধতি আলোচনা কর।
- ১০। বাংলাদেশে আইন ও
নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার সম্পর্ক আলোচনা কর।
- ১১। দ্বাদশ সংশোধনের
বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
- ১২। বাংলাদেশের
সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারগুলোর বর্ণনা দাও।
- ১৩। বাংলাদেশের
সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
- ১৪। বাংলাদেশ
সংবিধানের উল্লেখযোগ্য সংশোধনীসমূহ আলোচনা কর।
- ১৫। রাষ্ট্র
পরিচালনার মূলনীতির তাৎপর্য সংক্ষেপে লিখ।
প্রিলিমিনারি টু
মাস্টার্স পরীক্ষার (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ) "বাংলাদেশের সংবিধান এবং
সরকার (বিষয় কোড: 411911)" কোর্সের খ-বিভাগের ১৫টি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ নোট নিচে দেওয়া হলো। পূর্বের স্টাইল অনুসরণ করে
প্রতিটি উত্তর পরীক্ষার খাতায় ১ পৃষ্ঠা লেখার উপযোগী করে ভূমিকা, আকর্ষণীয় রঙিন আইকনযুক্ত পয়েন্ট এবং উপসংহার কাঠামোতে সাজানো হয়েছে।
ওয়ার্ডে পেস্ট করার
পর যদি আইকনগুলো সাদা-কালো দেখায়, তবে পুরো লেখাটি সিলেক্ট করে ফন্ট অপশন
থেকে 'Segoe UI Emoji' সিলেক্ট করে দেবেন, তাহলে আবার রঙিন দেখাবে।
⚖️ ১। 'সুপ্রিম
জুডিসিয়াল কাউন্সিল' কী? সুপ্রীম
কোর্টের বিচারক নিয়োগ পদ্ধতি লেখ।
✨ ভূমিকা:
বাংলাদেশের বিচার
বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিচারকদের অপসারণ এবং নিয়োগের
ক্ষেত্রে সংবিধানে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।
🔹 সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল (Supreme
Judicial Council):
- উঃ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের সদাচার ও
যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য গঠিত সর্বোচ্চ সাংবিধানিক সংস্থাই হলো সুপ্রিম
জুডিসিয়াল কাউন্সিল। এটি প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তী দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতির
সমন্বয়ে গঠিত হয়। কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অসামর্থ্য বা গুরুতর অসদাচরণের
অভিযোগ উঠলে এই কাউন্সিল তদন্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন পেশ করে।
🔸 সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ পদ্ধতি:
- 👤 রাষ্ট্রপতির
এখতিয়ার: সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম
কোর্টের প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সরাসরি নিযুক্ত হন এবং প্রধান
বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারকদের নিয়োগ দেন।
- 📜 সাংবিধানিক
যোগ্যতা: বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হতে হলে তাকে অবশ্যই:
- বাংলাদেশের নাগরিক হতে
হবে।
- সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে
১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে ওকালতি করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে; অথবা
- বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০
বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
🎯 উপসংহার:
সংক্ষেপে, সুপ্রিম
জুডিসিয়াল কাউন্সিল হলো বিচারকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ব্যবস্থা, আর রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমেই বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া
সম্পন্ন হয়।
🪖 ২।
বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া ও যুদ্ধ অপরাধ বলতে কী বুঝ?
✨ ভূমিকা:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও
আন্তর্জাতিক আইনের দুটি ভিন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো 'বেসামরিকীকরণ
প্রক্রিয়া' এবং 'যুদ্ধ অপরাধ'।
🔹 বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া (Demilitarization/Civilianization):
- উঃ কোনো রাষ্ট্রে দীর্ঘকাল সামরিক শাসন বা সামরিক
বাহিনীর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আধিপত্য থাকার পর, যখন
ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে হস্তান্তর করা
হয় এবং রাজনীতি থেকে সামরিক প্রভাব দূর করা হয়, তখন
তাকে বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া বলে। এটি সামরিক স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে
উত্তরণের একটি মাধ্যম।
🔸 যুদ্ধ অপরাধ (War Crimes):
- উঃ আন্তর্জাতিক আইন বা জেনেভা কনভেনশন অমান্য করে
যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কোনো সামরিক বাহিনী বা গোষ্ঠী কর্তৃক সাধারণ নিরস্ত্র
মানুষের ওপর চালানো অপরাধই হলো যুদ্ধ অপরাধ। যেমন— ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক
নাগরিক হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, যুদ্ধবন্দীদের ওপর অমানুষিক আচরণ এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস করা।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের
দোসররা এ দেশে ব্যাপক যুদ্ধ অপরাধ সংঘটিত করেছিল।
🎯 উপসংহার:
বেসামরিকীকরণ হলো
রাষ্ট্রকে অরাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক করার প্রক্রিয়া, অন্যদিকে
যুদ্ধ অপরাধ হলো মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত এক জঘন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ।
🤝 ৩। political জোট বলতে
কী বুঝ?
✨ ভূমিকা:
আধুনিক বহুদলীয়
গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতা লাভ বা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য
দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গঠন একটি অত্যন্ত সাধারণ কৌশল, যা 'রাজনৈতিক জোট' নামে পরিচিত।
🔹 রাজনৈতিক জোট (Political
Alliance/Coalition):
- সংজ্ঞা: যখন দুই বা ততোধিক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব
দলীয় আদর্শ সাময়িকভাবে বজায় রেখে বা ন্যূনতম সাধারণ কর্মসূচির (Common Agenda) ভিত্তিতে কোনো সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য বা নির্বাচনে জয়ী হয়ে
সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তাকে রাজনৈতিক
জোট বলে।
🔸 রাজনৈতিক জোটের প্রধান লক্ষ্য ও
বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- 🗳️ নির্বাচনে
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন: বহুদলীয় রাজনীতিতে ভোট ভাগ হওয়া রোধ করতে এবং আসন
সংখ্যা বাড়িয়ে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে দলগুলো জোট গঠন করে।
- 🏛️ কোয়ালিশন
সরকার গঠন: নির্বাচনে কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোটের শরিকরা মিলে 'কোয়ালিশন সরকার' বা যৌথ মন্ত্রীসভা গঠন করে।
- 📢 শক্তিশালী
বিরোধী দল গঠন: অনেক সময় স্বৈরাচারী বা শক্তিশালী সরকারি দলকে রাজনৈতিকভাবে
মোকাবিলা করতে বিরোধী দলগুলোও একমঞ্চে এসে আন্দোলন বা জোট গঠন করে (যেমন—
বাংলাদেশের ১৪ দলীয় বা ২০ দলীয় জোট)।
🎯 উপসংহার:
রাজনৈতিক জোট হলো
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে টিকে থাকার ও ক্ষমতা বণ্টনের একটি কৌশলগত যৌথ চুক্তি, যা উন্নয়নশীল
দেশগুলোর রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
🏛️ ৪। অনাস্থা প্রস্তাব কী? জাতীয় সংসদের গঠন বর্ণনা কর।
✨ ভূমিকা:
সংসদীয়
শাসনব্যবস্থায় সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভর করে আইনসভার সমর্থনের ওপর। এই ব্যবস্থার
দুটি মূল স্তম্ভ হলো 'অনাস্থা প্রস্তাব' এবং
সংসদের নিজস্ব 'গঠন' কাঠামো।
🔹 অনাস্থা প্রস্তাব (No-Confidence
Motion):
- উঃ সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন
মন্ত্রীসভার ওপর আইনসভার বা সংসদের আস্থা আছে কি না, তা
যাচাই করার জন্য বিরোধী দল বা সংসদের কোনো সদস্য কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাবকে
অনাস্থা প্রস্তাব বলে। এই প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণ করা হয়। যদি সংসদের
অধিকাংশ সদস্য (সংখ্যাগরিষ্ঠ) এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, তবে বর্তমান সরকার বা প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
🔸 জাতীয় সংসদের গঠন (Structure of
National Parliament):
संविधानের ৬৫ অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী,
বাংলাদেশের আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট এবং এর নাম 'জাতীয়
সংসদ'। এর গঠন নিম্নরূপ:
- 🗳️ প্রত্যক্ষ
নির্বাচিত আসন: দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে ৩০০টি
নির্বাচনী এলাকা থেকে ৩০০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- 👩 সংরক্ষিত
মহিলা আসন: জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আরও ৫০টি আসন
নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, যা সাধারণ ৩০০ আসনের সংসদ
সদস্যদের আনুপাতিক ভোটে নির্বাচিত হয়। অর্থাৎ সংসদে মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি। এর
মেয়াদকাল প্রথম অধিবেশন থেকে ৫ বছর।
🎯 উপসংহার:
অনাস্থা প্রস্তাব হলো
সংসদের হাতে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার এক চূড়ান্ত ক্ষমতা, আর প্রত্যক্ষ
ও পরোক্ষ আসনের সমন্বয়েই গঠিত হয় আমাদের জাতীয় সংসদ।
📜 ۵। সরকারি বিল ও
বেসরকারি বিলের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।
✨ ভূমিকা:
জাতীয় সংসদে আইন
প্রণয়নের জন্য যে খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, তাকে 'বিল' (Bill) বলে। এই বিল সংসদে কে উত্থাপন করছেন,
তার ওপর ভিত্তি করে একে সরকারি ও বেসরকারি—এই দুভাগে ভাগ করা যায়।
📋 সরকারি বিল ও বেসরকারি বিলের মধ্যকার প্রধান
পার্থক্যসমূহ:
|
বৈশিষ্ট্য |
👔 সরকারি বিল (Government Bill) |
👥 বেসরকারি বিল (Private Member's
Bill) |
|
উত্থাপনকারী |
এটি মন্ত্রীসভার
কোনো সদস্য বা মন্ত্রী সংসদে উত্থাপন করেন। |
এটি মন্ত্রী ছাড়া
সংসদের যেকোনো সাধারণ সদস্য (এমপি) উত্থাপন করতে পারেন। |
|
নোটিশের সময় |
এই বিল সংসদে
উত্থাপনের জন্য মাত্র ৭ দিনের পূর্ব নোটিশ দিতে হয়। |
এই বিল সংসদে
উত্থাপনের জন্য কমপক্ষে ১৫ দিনের পূর্ব নোটিশের প্রয়োজন হয়। |
|
পাস হওয়ার সম্ভাবনা |
সংসদে সরকারি দলের
সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। |
সরকারি দলের সমর্থন
না থাকলে সাধারণত এই বিল পাস হওয়া অত্যন্ত কঠিন। |
|
নীতিগত অবস্থান |
এটি সরকারের নিজস্ব
নীতি, এজেন্ডা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। |
এটি সাধারণ সদস্যের
ব্যক্তিগত বা কোনো আঞ্চলিক সমস্যার প্রতিফলন ঘটায়। |
|
আইনি খসড়া |
এই বিলের খসড়া আইন
মন্ত্রণালয় ও সরকারি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি হয়। |
এই বিলের সম্পূর্ণ
খসড়া সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে নিজ দায়িত্বে তৈরি করতে হয়। |
🎯 উপসংহার:
আইন প্রণয়নে দুটি
বিলেরই সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, তবে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে সরকারি বিলই
সংসদে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
🗳️ ৬। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
প্রক্রিয়া সম্পর্কে লেখ।
✨ ভূমিকা:
সংবিধানের ৪৮
অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
তিনি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান পান। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরাসরি
জনগণের ভোটে নয়, বরং পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
🗳️ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া:
- 🏛️ নির্বাচনী
কলেজ (Electoral College): সংবিধানের ৪৮(২) অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত
হন। অর্থাৎ, জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন নির্বাচিত সদস্যের
ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একে পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি বলা হয়।
- ⏳ মেয়াদকাল
ও পুনঃনির্বাচন: রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছরের মেয়াদে পদে
অধিষ্ঠিত থাকেন। তবে একজন ব্যক্তি পরপর বা সর্বমোট দুই মেয়াদের বেশি
রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারবেন না।
- ⚖️ প্রার্থীর
যোগ্যতা: রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হতে হলে তাকে অবশ্যই:
- বাংলাদেশের নাগরিক হতে
হবে।
- বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে
হবে।
- সংসদ সদস্য নির্বাচিত
হওয়ার যোগ্য হতে হবে।
- 🗳️ নির্বাচন
পরিচালনা: নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে এই ভোট গ্রহণ ও ফলাফল
ঘোষণা করেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
🎯 উপসংহার:
বাংলাদেশের
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ব্যবস্থাটি সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতীক, যেখানে
জনগণের প্রতিনিধিরা ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক নির্বাচন করেন।
📜 ৭। অস্থায়ী সংবিধান আদেশ কী? বাংলাদেশ সংবিধানের সংশোধন পদ্ধতি বর্ণনা কর।
✨ ভূমিকা:
১৯৭২ সালে সদ্য
স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্রান্তিলগ্নে 'অস্থায়ী
সংবিধান আদেশ' ছিল একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। পরবর্তীতে স্থায়ী
সংবিধানে সংশোধনের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম যুক্ত করা হয়।
🔹 অস্থায়ী সংবিধান আদেশ কী?
- উঃ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২
সালের ১১ জানুয়ারি দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার চালুর লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান স্বীয় ক্ষমতাবলে যে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন, তাকে অস্থায়ী সংবিধান আদেশ ১৯৭২ বলা হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত
ব্যবস্থা থেকে দেশ সংসদীয় ব্যবস্থায় পদার্পণ করে।
🔸 বাংলাদেশ সংবিধানের সংশোধন পদ্ধতি:
সংবিধানের ১৪২
অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধানের কোনো ধারা পরিবর্তন, সংশোধন
বা সংযোজন করতে হলে নিম্নোক্ত পদ্ধতি মানতে হবে:
- ✍️ বিলের
শিরোনাম ও নোটিশ: সংশোধনী বিলের শিরোনামে স্পষ্টভাবে লিখতে হবে যে এটি
সংবিধান সংশোধনের বিল।
- 🗳️ দুই-তৃতীয়াংশ
সংখ্যাগরিষ্ঠতা: বিলটি পাস হতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার (৩৫০
আসনের) কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটের সমর্থনে পাস হতে হবে।
- 👤 রাষ্ট্রপতির
সম্মতি: সংসদ কর্তৃক বিলটি পাস হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলে,
রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে তাতে সম্মতি দেবেন। তিনি যদি সম্মতি
না দেন, তবে ৭ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিলটি
স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মতি লাভ করেছে বলে গণ্য হবে।
🎯 উপসংহার:
অস্থায়ী সংবিধান আদেশ
ছিল সংবিধানের আদি ভিত্তি, আর ১৪২ অনুচ্ছেদের কড়া নিয়মাবলী প্রমাণ করে
যে বাংলাদেশের সংবিধান সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয় (অনমনীয়)।
💰 ৮। অর্থ বিল কী? রাষ্ট্রপতির
অধ্যাদেশ সম্পর্কে লিখ。
✨ ভূমিকা:
রাষ্ট্রের আর্থিক
শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি অবস্থায় আইন প্রণয়নের জন্য সংবিধানে 'অর্থ বিল'
এবং 'রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ' সংক্রান্ত বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
🔹 অর্থ বিল (Money Bill):
- উঃ সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো কর
বা রাজস্ব আরোপ, মওকুফ, পরিবর্তন,
অথবা সরকারি তহবিল (সংযুক্ত তহবিল) থেকে অর্থ সরকারি ব্যয় বা
বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয় সম্বলিত বিলকে অর্থ বিল বলা হয়। অর্থ বিল কেবল
প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশক্রমে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা যায় এবং এই বিলটি অর্থ
বিল কি না, সে বিষয়ে স্পিকারের সার্টিফিকেট বা
সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
🔸 রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ (President's
Ordinance):
- উঃ সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যখন
জাতীয় সংসদের কোনো অধিবেশন না থাকে বা সংসদ ভেঙে যায়, এবং
এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যা তাৎক্ষণিক আইন প্রণয়ন করা জরুরি, তখন রাষ্ট্রপতি নির্বাহী আদেশে যে আইন জারি করেন, তাকে অধ্যাদেশ বলে।
- ⚖️ কার্যকারিতা:
এই অধ্যাদেশের ক্ষমতা সংসদের পাস করা আইনের মতোই সমান কার্যকর। তবে সংসদ
পুনর্গঠিত বা অধিবেশন বসার পর প্রথম বৈঠকেই অধ্যাদেশটি সংসদে উত্থাপন করতে
হবে, অন্যথায় ৩০ দিন পর এর কার্যকারিতা লোপ পাবে।
🎯 উপসংহার:
অর্থ বিল হলো সংসদের
আর্থিক ক্ষমতার প্রতীক, আর অধ্যাদেশ হলো সংসদের অনুপস্থিতিতে
রাষ্ট্রপতির বিশেষ আইন প্রণয়ন ক্ষমতা।
📋 ৯। কার্যপ্রণালি বিধি বলতে কী বুঝ? বাংলাদেশের দলীয় ব্যবস্থার পাঁচটি বৈশিষ্ট্য লিখ।
✨ ভূমিকা:
জাতীয় সংসদের দৈনিক
কার্যপরিচালনা এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো কার্যপ্রণালি বিধি ও
রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব আচরণ বা বৈশিষ্ট্য।
🔹 কার্যপ্রণালি বিধি (Rules of
Procedure):
- উঃ সংবিধানের ৭৫(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয়
সংসদের অধিবেশন, কার্য পরিচালনা, শৃঙ্খলা
রক্ষা এবং বিতর্ক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সংসদ নিজেই যে সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী বা
বিধিমালা প্রণয়ন করে, তাকে কার্যপ্রণালি বিধি (Rules
of Procedure) বলে। স্পিকার এই বিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালনা
করেন।
🔸 বাংলাদেশের দলীয় ব্যবস্থার পাঁচটি
বৈশিষ্ট্য:
১। 👥 বহুদলীয় ব্যবস্থা (Multi-Party System): বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত অসংখ্য রাজনৈতিক দল রয়েছে
(যেমন— আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয়
পার্টি ইত্যাদি)।
২.. 🤝 জোট রাজনীতির প্রবণতা: এককভাবে
ক্ষমতা লাভের চেয়ে দলগুলোর মধ্যে বড় নির্বাচনী বা রাজনৈতিক জোট (যেমন— ১৪ দল বা
ঐক্যজোট) গঠনের তীব্র প্রবণতা দেখা যায়।
৩.. 👤 ব্যক্তিসর্বস্ব ও
পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব: দলগুলো সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামোর চেয়ে
ক্যারিশম্যাটিক শীর্ষ নেতা বা পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
৪। 🚩 তীব্র আদর্শিক মেরুকরণ: জাতীয়
রাজনীতি প্রধানত দুটি মেরুতে বিভক্ত— একদল ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শী এবং
অন্যদল অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।
৫.. 🤐 অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব
ও অনুগত সংস্কৃতি: দলগুলোর ভেতরে নিয়মিত কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতৃত্ব
বাছাইয়ের গণতান্ত্রিক চর্চা খুবই দুর্বল, সিদ্ধান্ত উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া
হয়।
🎯 উপসংহার:
কার্যপ্রণালি বিধি
যেমন সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখে, তেমনি এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের দলীয়
রাজনীতির বাস্তব রূপকে ফুটিয়ে তোলে।
📜 ১০। দ্বাদশ সংশোধনের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা
কর।
✨ ভূমিকা:
বাংলাদেশের
সাংবিধানিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হলো সংবিধানের 'দ্বাদশ
সংশোধনী আইন ১৯৯১'। দীর্ঘ সময় পর এই সংশোধনীর মাধ্যমেই দেশে স্বৈরাচারী
রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার অবসান ঘটে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়েছিল।
🟢 দ্বাদশ সংশোধনীর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- 🇬🇧 সংসদীয়
ব্যবস্থার প্রবর্তন: এই সংশোধনীর মূল বৈশিষ্ট্য ছিল দেশে পুনরুত্থানমূলক
সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন। এর ফলে
প্রধানমন্ত্রী হন প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান এবং মন্ত্রীসভা সংসদের কাছে
দায়বদ্ধ থাকে।
- 👤 রাষ্ট্রপতির
পদমর্যাদা পরিবর্তন: রাষ্ট্রপতিকে প্রকৃত ক্ষমতার পরিবর্তে নামমাত্র বা
অলঙ্কারিক রাষ্ট্রপ্রধান করা হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া (প্রধান
বিচারপতি নিয়োগ বাদে) অন্য কোনো কাজ স্বাধীনভাবে করতে পারেন না।
- 🏛️ উপ-রাষ্ট্রপতির
পদ বিলুপ্তি: রাষ্ট্রপতি শাসিত আমলের উপ-রাষ্ট্রপতির (Vice President)
পদটি এই সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন
বলে বিধান রাখা হয়।
- 🗳️ দলত্যাগ
বিরোধী ৭০ অনুচ্ছেদ শক্তিশালীকরণ: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও ফ্লোর ক্রসিং
(Floor Crossing) বন্ধ করতে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়,
যাতে কোনো সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে বা দল ত্যাগ করলে তার
আসন শূন্য হয়ে যায়।
🎯 উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, দ্বাদশ
সংশোধনী ছিল ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন,
যা বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার স্থায়ী আইনি ভিত্তি স্থাপন
করেছিল।
🏛️ ১১। সাংবিধানিক সরকার ও মানবাধিকার বলতে কী
বুঝ?
✨ ভূমিকা:
একটি সভ্য ও
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল পরিচয় পাওয়া যায় তার সাংবিধানিক শাসনপদ্ধতি এবং
নাগরিকদের মানবাধিকার সুরক্ষার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে।
🔹 সাংবিধানিক সরকার (Constitutional
Government):
- উঃ যে সরকার ব্যবস্থা কোনো শাসক বা ব্যক্তির
খেয়ালখুশিতে নয়, বরং দেশের সর্বোচ্চ আইন বা 'সংবিধান'
অনুযায়ী পরিচালিত হয়, তাকে সাংবিধানিক
সরকার বা সীমিত সরকার (Limited Government) বলে। এখানে
সরকারের ক্ষমতা সুনির্দিষ্টভাবে সীমাবদ্ধ থাকে এবং আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ নিজ নিজ সীমানার মধ্যে থেকে কাজ করে,
ফলে স্বৈরাচারের কোনো সুযোগ থাকে না।
🔸 মানবাধিকার (Human Rights):
- উঃ মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার কারণে পৃথিবীর প্রতিটি
নাগরিক রাষ্ট্র বা সমাজের কাছে প্রাকৃতিকভাবে যে সমস্ত জন্মগত, মৌলিক ও
অলঙ্ঘনীয় অধিকার লাভ করে, তাকে মানবাধিকার বলে। ১৯৪৮
সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত 'মানবাধিকারের
সর্বজনীন ঘোষণা' (UDHR) অনুযায়ী— জীবনের অধিকার,
স্বাধীনতার অধিকার, চিন্তার অধিকার এবং
বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সমতার অধিকার এর অন্তর্ভুক্ত।
🎯 উপসংহার:
সাংবিধানিক সরকার
আইনের শাসন নিশ্চিত করে, আর সেই আইনের শাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো
প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা।
📜 ১২। বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য লিখ।
✨ ভূমিকা:
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
গণপরিষদে গৃহীত এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া বাংলাদেশের সংবিধানটি বিশ্বের
অন্যতম শ্রেষ্ঠ, প্রগতিশীল এবং একটি আধুনিক লিখিত দলিল।
🟢 বাংলাদেশ সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ✍️ লিখিত ও
অনমনীয় দলিল: এটি একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত সংবিধান, যাতে
১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং একটি প্রস্তাবনা রয়েছে।
এটি পরিবর্তন করতে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটের প্রয়োজন হয়, তাই এটি অনমনীয়।
- 🇬🇧 সংসদীয়
পদ্ধতির সরকার: সংবিধানে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা বলা
হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী কার্যনির্বাহী প্রধান এবং
মন্ত্রীসভা সংসদের কাছে যৌথভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
- 🇧🇩 এককেন্দ্রিক
রাষ্ট্র: বাংলাদেশ কোনো যুক্তরাষ্ট্র নয়, এটি একটি
এককেন্দ্রিক সাধারণতন্ত্র। সমগ্র দেশের জন্য একটি মাত্র কেন্দ্রীয় সরকার এবং
একটি মাত্র আইনসভা (জাতীয় সংসদ) রয়েছে।
- 🏛️ চার
রাষ্ট্রীয় মূলনীতি: সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের ৪টি মূলস্তম্ভ ঘোষণা করা
হয়েছে: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র
ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
- ⚖️ বিচার
বিভাগের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার: সংবিধানে নাগরিকদের জন্য ১৮টি মৌলিক
অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন
রাখার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
🎯 উপসংহার:
বাংলাদেশের সংবিধান
কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম নয়, এটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং
সাম্য ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার এক আইনি অঙ্গীকার।
💳 ১৩। সংবিধানে-উল্লিখিত পাঁচটি মৌলিক অধিকার
উল্লেখ কর।
✨ ভূমিকা:
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে
(অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭) বাংলাদেশের নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও সুরক্ষার জন্য
বেশ কিছু মৌলিক অধিকারের (Fundamental Rights) গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে।
এই অধিকারগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য।
🖐️ সংবিধানে উল্লেখিত প্রধান পাঁচটি মৌলিক
অধিকার:
১.. ⚖️ আইনের দৃষ্টিতে সমতা
(অনুচ্ছেদ ২৭): বাংলাদেশের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়
লাভের অধিকারী। ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের কারণে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।
২.. 🚫 জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ
(অনুচ্ছেদ ৩৪): দেশে সব ধরনের জবরদস্তিমূলক শ্রম বা বেগাড় খাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
৩.. 🗣️ চিন্তা, বিবেক ও
বাক-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯): প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার
নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও কথা বলার অধিকার প্রদান
করা হয়েছে।
৪। 🏢 চলাফেরার স্বাধীনতা
(অনুচ্ছেদ ৩৬): জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে, বাংলাদেশের
অভ্যন্তরে যেকোনো স্থানে অবাধে চলাফেরা ও বসবাসের অধিকার প্রতি নাগরিকের রয়েছে।
৫.. 🕌 ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ
৪১): প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন ও প্রচার করার পূর্ণ অধিকার
রয়েছে এবং কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউকে জোর করে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।
🎯 উপসংহার:
এই মৌলিক অধিকারগুলো
নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় শোষণ থেকে রক্ষা করে এবং একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ
জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেয়।
🏛️ ১৪। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার
মূলনীতি কী কী?
✨ ভূমিকা:
সংবিধানের দ্বিতীয়
ভাগে (অনুচ্ছেদ ৮ থেকে ২৫) রাষ্ট্র পরিচালনার কিছু মৌলিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা 'রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি' (Fundamental Principles of State
Policy) নামে পরিচিত। এগুলো সরাসরি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য না
হলেও দেশের আইন ও নীতি তৈরির মূল ভিত্তি।
🧱 চারটি প্রধান রাষ্ট্রীয় মূলনীতি (অনুচ্ছেদ
৮):
১.. 🇧🇩 জাতীয়তাবাদ (Nationalism): বাঙালি
জাতির ঐক্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে যে অভিন্ন
সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা-ই হবে জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি।
২.. 🌾 সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি (Socialism): মানুষের
ওপর মানুষের সব ধরনের অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি এবং একটি ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী
সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৩.. 🗳️ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার (Democracy): রাষ্ট্রে
একটি কার্যকর মানব অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে এবং প্রশাসনের সকল স্তরে
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
৪। 🕊️ ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয়
স্বাধীনতা (Secularism): রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা
দেবে না। ধর্মের নামে কোনো বৈষম্য বা নির্যাতন করা যাবে না এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ
ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে।
🎯 উপসংহার:
এই মূলনীতিগুলো হলো
একটি আদর্শ ও কল্যাণকামী বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি ও রাজনৈতিক দর্শন।
👔 ১৫। জাতীয় সংসদের স্পীকার নির্বাচন পদ্ধতি
লিখ।
✨ ভূমিকা:
সংবিধানের ৭৪
অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনসভার অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য একজন
স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকারের পদের বিধান রয়েছে।
🗳️ স্পিকার নির্বাচন পদ্ধতি:
- ⏳ প্রথম
বৈঠক ও নির্বাচন: সাধারণ নির্বাচনের পর নবগঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের
প্রথম বৈঠকেই উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে সংসদ নিজেই ভোট দিয়ে একজন
স্পিকার এবং একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে।
- ✍️ মনোনয়ন ও
সমর্থন: সাধারণত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়
এবং অন্য একজন সদস্য তা সমর্থন করেন। যদি একাধিক প্রার্থী থাকে তবে গোপন
ব্যালটে বা কণ্ঠভোটে (Voice Vote) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- 🗳️ সাধারণ
সংখ্যাগরিষ্ঠতা: নির্বাচনে জয়ী হতে হলে প্রার্থীকে সংসদে উপস্থিত ও
ভোটদানকারী সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার (Simple Majority) ভোট পেতে হয়।
- 🤝 শপথ
গ্রহণ: নির্বাচিত হওয়ার পর স্পিকার মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে পদের শপথ
গ্রহণ করেন এবং বিদায়ী স্পিকারের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সংসদ পরিচালনা
শুরু করেন।
🎯 উপসংহার:
স্পিকার সংসদের
নিরপেক্ষতার প্রতীক। সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েই তিনি সংসদের
সর্বোচ্চ মর্যাদা ও কার্যপ্রণালি বিধি রক্ষা করেন।
গ-বিভাগের ১৫টি রচনামূলক প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ নোট নিচে দেওয়া হলো।
প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষার
(রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ)
" can বাংলাদেশের সংবিধান এবং সরকার (বিষয় কোড: 411911)"
কোর্সের প্রতিটি উত্তর পরীক্ষার খাতার মান অনুযায়ী ভূমিকা, আকর্ষণীয় রঙিন আইকনযুক্ত বিস্তারিত পয়েন্ট (মূল কথাসহ) এবং উপসংহার কাঠামোতে
সাজানো হয়েছে, যা লিখলে সহজে ২ থেকে ৩ পৃষ্ঠা সম্পন্ন হবে।
🏛️ ১। গণপরিষদ কী? বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলব্যবস্থার
প্রকৃতি বর্ণনা কর।
✨ ভূমিকা:
যেকোনো
স্বাধীন রাষ্ট্রের পথচলার প্রথম আইনি ভিত্তি তৈরি হয় একটি কার্যকর সংবিধানের
মাধ্যমে, আর এই সংবিধান রচনার মূল দায়িত্ব পালন করে 'গণপরিষদ'। বাংলাদেশের
ক্ষেত্রেও ১৯৭২ সালে গণপরিষদের ভূমিকা ছিল অনন্য। একই সাথে একটি দেশের গণতান্ত্রিক
শাসনব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো তার রাজনৈতিক দলব্যবস্থা (Political
Party System)।
🔹 গণপরিষদ (Constituent Assembly):
- মূল কথা: যে বিশেষ পরিষদ
বা সংস্থা কোনো রাষ্ট্রের জন্য একটি নতুন সংবিধান রচনা, সংশোধন
বা গ্রহণের উদ্দেশ্যে জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত
প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়, তাকে গণপরিষদ বলে। ১৯৭২
সালের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশ
গণপরিষদ আদেশ' জারি করেন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক
নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই পরিষদ গঠিত হয়,
যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি
পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়ন করা।
🔸 বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলব্যবস্থার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য:
- 👥 বহুদলীয় ব্যবস্থা (Multi-Party
System): বাংলাদেশের সংবিধান রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা
দিয়েছে। ফলে এ দেশে একটি বহুদলীয় দলব্যবস্থা বিদ্যমান। প্রধান প্রধান দলগুলোর
পাশাপাশি অসংখ্য ছোট ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল এখানে সক্রিয় রয়েছে।
- 🚩 আদর্শিক দ্বিমেরুকরণ (Ideological
Polarization): বাংলাদেশের রাজনীতি প্রধানত দুটি ধারায় বা
মেরুতে বিভক্ত। একদল বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায়
বিশ্বাসী, অন্যদল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয়
মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে রাজনীতি পরিচালনা করে।
- 🤝 জোট রাজনীতির প্রবণতা: বাংলাদেশে
এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়ে বিভিন্ন আদর্শের বা ছোট ছোট দলগুলোকে সাথে নিয়ে
বৃহৎ রাজনৈতিক জোট (যেমন- ১৪ দল বা ২০ দলীয় ঐক্যজোট) গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন
ও আন্দোলন করার তীব্র প্রবণতা দেখা যায়।
- 👤 ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও
পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব: দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর চেয়ে শীর্ষ নেতার
ব্যক্তিগত ক্যারিশমা বা পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর দল টিকে থাকে। দলীয় প্রধানের
সিদ্ধান্তই দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয়।
- 💥 অসহিষ্ণুতা ও সংঘাতের
রাজনীতি: দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার অভাব প্রকট। হরতাল,
ধর্মঘট, বয়কট এবং রাজপথের সহিংসতা এ
দেশের দলীয় রাজনীতির অন্যতম চেনা রূপ।
🎯 উপসংহার:
গণপরিষদ
আমাদের একটি চমৎকার সংবিধান দিলেও, এ দেশের রাজনৈতিক
দলব্যবস্থার মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অভ্যন্তরীণ সহনশীলতার ঘাটতি রয়েছে।
সুস্থ ও টেকসই গণতন্ত্রের স্বার্থে দলীয় ব্যবস্থায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুশাসন
প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
📜 ২। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ও বর্তমান বাংলাদেশ সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো
উল্লেখ কর।
✨ ভূমিকা:
বাংলাদেশের
মূল সংবিধানটি ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে
কার্যকর হয়। সময়ের প্রয়োজনে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সংবিধানে এ পর্যন্ত
১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে। ফলে মূল বাহাত্তরের সংবিধান এবং বর্তমান সংশোধিত
সংবিধানের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য ও নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ হয়েছে।
🟢 ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- 🏛️ চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি: মূল
সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ ছিল চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি— জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
- 🇬🇧 সংসদীয়
সরকার ব্যবস্থা: বাহাত্তরের সংবিধানে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার
ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী
ছিলেন নির্বাহী প্রধান এবং মন্ত্রীসভা সংসদের কাছে যৌথভাবে দায়ী থাকত।
- ⚖️ এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও স্বাধীন বিচার
বিভাগ: আইনসভা ছিল একক কক্ষবিশিষ্ট (জাতীয় সংসদ) এবং বিচার বিভাগকে শাসন
বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন রাখার জোরালো অঙ্গীকার ছিল।
- 🚫 ধর্মনিরপেক্ষতা ও
সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ: রাষ্ট্র ও ধর্মকে আলাদা রাখা হয়েছিল এবং
ধর্মের নামে কোনো রাজনৈতিক দল গঠন বা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অধিকার ছিল
না।
🔵 বর্তমান বাংলাদেশ সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (১৭তম সংশোধনী পর্যন্ত):
- 🕌 রাষ্ট্রধর্মের অন্তর্ভুক্তি:
বর্তমান সংবিধানে (২ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী) 'ইসলাম'-কে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তবে হিন্দু,
বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মের
সমমর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
- 🇧🇩 জাতির
পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ: সংবিধানের ৪ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত
প্রতিষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও
প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- 👩 সংরক্ষিত মহিলা আসন বৃদ্ধি: বর্তমান
সংবিধানে জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের
সংখ্যা ৫০টিতে উন্নীত করা হয়েছে।
- 🔒 সংবিধানের মৌলিক কাঠামো
পরিবর্তন অযোগ্য: পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৭খ অনুচ্ছেদ যুক্ত করা
হয়েছে, যার ফলে সংবিধানের প্রস্তাবনা, মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ
অংশ আর কখনো সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাবে না।
🎯 উপসংহার:
বাহাত্তরের
মূল সংবিধান ছিল সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক ও সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার এক অনন্য দলিল।
বর্তমান সংবিধান তার মূল চেতনাকে অনেকাংশে ধরে রাখলেও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে
এতে বেশ কিছু কৌশলগত ও ধর্মীয় রূপান্তর ঘটেছে।
👔 ৩। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা কর。
✨ ভূমিকা:
সংবিধানের
৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি হলেন গণপ্রজাতন্ত্রী
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান পান।
বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত থাকায় রাষ্ট্রপতি মূলত অলঙ্কারিক প্রধান
হলেও সংবিধানে তাঁকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
🔸 রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- 🗣️ প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান
বিচারপতি নিয়োগ: রাষ্ট্রপতির অন্যতম প্রধান কাজ হলো জাতীয় সংসদের
সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ
দেওয়া। এ ছাড়া তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে
নিয়োগ করতে পারেন। এই দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির কারো পরামর্শের প্রয়োজন হয়
না।
- 📜 অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা: সংবিধানের
৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যখন সংসদের কোনো অধিবেশন থাকে না
বা সংসদ ভেঙে যায়, এবং জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়,
তখন রাষ্ট্রপতি নির্বাহী আদেশে আইন বা 'অধ্যাদেশ'
জারি করতে পারেন, যা সংসদের আইনের মতোই
কার্যকর হয়।
- 🏛️ সংসদ আহ্বান ও ভেঙে দেওয়া: প্রধানমন্ত্রীর
লিখিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন,
স্থগিত করতে পারেন এবং সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।
- 🤝 ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষ
অধিকার: সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে
এক অনন্য মানবিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আদালত, ট্রাইব্যুনাল
বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যেকোনো দণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির
সাজা তিনি মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারেন।
- 🎖️ সশস্ত্র বাহিনীর
সর্বাধিনায়ক্ত্ব: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের (সেনা,
নৌ ও বিমান বাহিনী) সর্বাধিনায়ক। তিনি বহিরাক্রমণ থেকে দেশকে
রক্ষা করতে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন (প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর
সাপেক্ষে)।
🎯 উপসংহার:
যদিও
সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়, তবুও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে ক্রান্তিলগ্নে বা রাজনৈতিক সংকটে
রাষ্ট্রপতির পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ।
🏛️ ৪। বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।
✨ ভূমিকা:
১৯৭২
সালের মূল সংবিধানে বাংলাদেশে সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা
প্রবর্তন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার পর ১৯৯১ সালে দ্বাদশ
সংশোধনীর মাধ্যমে দেশ পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসে। এ শাসনব্যবস্থায় আইনসভা ও
নির্বাহী বিভাগের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক থাকে এবং সরকার সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে
বাধ্য থাকে।
🟢 সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার ইতিবাচক কার্যকারিতা:
- 👥 জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: সংসদীয়
ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীসভাকে প্রতিটি কাজের জন্য জাতীয়
সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন প্রশ্ন, নিন্দা প্রস্তাব ও মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের মাধ্যমে সরকারের ওপর
নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন।
- 🛡️ স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ: রাষ্ট্রপতি
শাসিত সরকারের মতো এখানে একক ব্যক্তির হাতে সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকে না। নীতি
নির্ধারণে যৌথ নেতৃত্ব ও মন্ত্রীসভার যৌথ দায়বদ্ধতা কাজ করে, যা স্বৈরাচারী হওয়ার পথ বন্ধ করে।
- 📜 আইন প্রণয়নে জনমতের
প্রতিফলন: যেহেতু সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন, তাই আইন প্রণয়নের সময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জনমতের প্রতিফলন ঘটানো
সম্ভব হয়।
🔵 কার্যকারিতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জসমূহ:
- 🤐 সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের
বাধা: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের সিদ্ধান্তের
বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। এর ফলে সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব
আনা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং আইনসভার ওপর নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ আধিপত্য তৈরি
হয়।
- 📉 দুর্বল বিরোধী দল ও সংসদ
বয়কট: বাংলাদেশে শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের অভাব রয়েছে। প্রায়শই দেখা
যায়, বিরোধী দলগুলো সংসদে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ার
অজুহাতে দিনের পর দিন সংসদ বয়কট করে, যা আইনসভাকে
অকার্যকর করে তোলে।
- 🕴️ 'প্রধানমন্ত্রীর একনায়কত্ব'
(Prime Ministerial Dictatorship): দলীয় প্রধান এবং সরকার
প্রধান একই ব্যক্তি হওয়ায় এবং সংসদে নিজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংসদীয়
ব্যবস্থাটি অনেক সময় কার্যত প্রধানমন্ত্রীর একক শাসনে রূপ নেয়।
🎯 উপসংহার:
বাংলাদেশে
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার আইনি কাঠামো চমৎকার হলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ৭০ অনুচ্ছেদের কঠোরতা এবং দলীয় অসহিষ্ণুতার কারণে এর পূর্ণাঙ্গ
কার্যকারিতা বা সুফল জনগণ এখনো পুরোপুরি পাচ্ছে না।
⚖️ ৫। বিচার বিভাগের
স্বাধীনতা কী? বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার
উপায়সমূহ আলোচনা কর।
✨ ভূমিকা:
একটি
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব এবং আইনের শাসন (Rule of Law) প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হলো একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ। বিচার
বিভাগ যদি শাসন বিভাগ বা অন্য কোনো মহলের চাপ ও প্রভাব থেকে মুক্ত না থাকে,
তবে নাগরিকরা কখনোই প্রকৃত ন্যায়বিচার পায় না।
🔹 বিচার বিভাগের স্বাধীনতা (Independence of the Judiciary):
- মূল কথা: বিচার বিভাগের
স্বাধীনতা বলতে বুঝায়— বিচারকগণ কোনো ভয়ভীতি, প্রলোভন,
রাজনৈতিক চাপ বা নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্পূর্ণ
মুক্ত ও স্বাধীনভাবে দেশের প্রচলিত আইন ও নিজস্ব বিবেক অনুযায়ী ন্যায়বিচার
নিশ্চিত করবেন। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার
বিভাগ পৃথক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ১ নভেম্বর
২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
🔸 বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায়সমূহ:
- 👤 নিয়োগ প্রক্রিয়ার
রাজনীতিকীকরণ বন্ধ করা: সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক
আনুগত্য বিবেচনা না করে সুনির্দিষ্ট আইনি যোগ্যতা, সততা
ও মেধার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
- 🔒 পদের স্থায়ীত্ব ও চাকরির
নিরাপত্তা: বিচারকদের চাকরি বা পদের নিরাপত্তা দিতে হবে। যাতে তারা সরকারের
বিরুদ্ধে রায় দিলেও চাকরি হারানোর ভয়ে না থাকেন। কেবল গুরুতর অসদাচরণ
প্রমাণিত হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার (যেমন- সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল)
মাধ্যমে অপসারণের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
- 💰 আর্থিক ও প্রশাসনিক
স্বাধীনতা: বিচার বিভাগের নিজস্ব বাজেট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের পূর্ণ
প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির হাতে থাকতে হবে, যাতে
ফাণ্ডের জন্য আইন বা শাসন মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষী হতে না হয়।
- 🏛️ অবমাননাকর আইন ও দলীয় প্রভাব
মুক্ত রাখা: আদালত অবমাননার আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী বিচারকদের চরিত্র হনন
বা রায় নিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে না পারে।
🎯 উপসংহার:
বিচার
বিভাগের স্বাধীনতা কেবল কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না, এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বিচারকদের নিজস্ব পেশাগত সততা। বিচার
বিভাগ স্বাধীন হলেই কেবল রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
🏢 ৬। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা কর।
✨ ভূমিকা:
সংবিধানের
নবম ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে (১৩৭-১৪১ অনুচ্ছেদ) দেশ পরিচালনার জন্য দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী আমলা বা সরকারি কর্মচারী নিয়োগের উদ্দেশ্যে একটি স্বাধীন
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন'
(BPSC) গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
🟢 বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (BPSC) গঠন:
- 👤 সদস্য সংখ্যা ও নিয়োগ: সংবিধানের
১৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান এবং আইন দ্বারা
নির্ধারিত কয়েকজন সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হয়। বর্তমানে বিপিএসসির সদস্য
সংখ্যা সাধারণত ১২ থেকে ১৫ জন হয়ে থাকে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এদেরকে নিয়োগ
দিয়ে থাকেন।
- ⏳ মেয়াদকাল: চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ
কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর অথবা তাদের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া— এর
মধ্যে যা আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকতে
পারেন। কমিশনের অর্ধেক সদস্য এমন হতে হবে যারা কমপক্ষে ২০ বছর সরকারি চাকরিতে
দায়িত্ব পালন করেছেন।
🔸 কর্মকমিশনের প্রধান কার্যাবলি:
- 📝 নিয়োগ পরীক্ষা ও যাচাইকরণ: প্রজাতন্ত্রের
কর্মে (যেমন- বিসিএস বা অন্যান্য নন-ক্যাডার পদ) যোগ্য জনবল নিয়োগের
উদ্দেশ্যে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ গ্রহণ করা এবং মেধার ভিত্তিতে
প্রার্থী বাছাই করা বিপিএসসির প্রধান কাজ।
- 📜 পদোন্নতি ও বদলির নীতি
নির্ধারণ: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, এক
ক্যাডার থেকে অন্য ক্যাডারে বদলি এবং তাদের চাকরির যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা
নির্ধারণের নীতি বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া।
- ⚖️ শৃঙ্খলা ও আপিল সংক্রান্ত পরামর্শ: কোনো
সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বরখাস্তের
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিপিএসসির কাছ থেকে আইনি
পরামর্শ নিতে হয়।
- 📊 বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ: কমিশন
প্রতি বছর তার কাজের একটি বিস্তারিত বিবরণী বা বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করে
রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করে, যা পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে
উপস্থাপন করা হয়।
🎯 Follow-up / উপসংহার:
বিপিএসসি
দেশের মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র গড়ার কারিগর। তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক
স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সব ধরনের কোটা বা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে নিরপেক্ষভাবে
পরীক্ষা পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।
⚖️ ৭। এটর্নি
জেনারেলের দায়িত্ব ও কর্তব্য আলোচনা কর।
✨ ভূমিকা:
সংবিধানের
৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ
আইন কর্মকর্তা হলেন 'এটর্নি জেনারেল' (Attorney
General)। তিনি হলেন সরকারের প্রধান আইনি উপদেষ্টা এবং
সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের প্রধান প্রতিনিধি।
🔸 এটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ:
- 🏛️ আদালতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব
করা: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগে সরকারের স্বার্থ জড়িত
এমন সমস্ত মামলায় (যেমন- রাষ্ট্র বনাম কোনো আসামি বা রিট মামলা) এটর্নি
জেনারেল নিজে অথবা তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরকারের পক্ষে আইনি
লড়াই পরিচালনা করেন।
- 📜 আইনি পরামর্শ প্রদান: রাষ্ট্রপতি
বা সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় জটিল কোনো আইনি বা সাংবিধানিক বিষয়ে জটিলতায় পড়লে,
এটর্নি জেনারেল সেই বিষয়ে তাঁর সুচিন্তিত ও আইনগত মতামত প্রদান
করেন।
- 🗣️ সংসদে অংশগ্রহণের বিশেষ
অধিকার: এটর্নি জেনারেল সংসদ সদস্য না হয়েও জাতীয় সংসদের যেকোনো অধিবেশনে
উপস্থিত থাকার এবং বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রাখেন (তবে তিনি কোনো বিলে ভোট দিতে
পারেন না)।
- ⚖️ সংবিধান রক্ষা ও ব্যাখ্যা: দেশের
সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধানের কোনো ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে,
তিনি আদালতের সামনে সংবিধানের সঠিক রূপ তুলে ধরে বিচারকদের
সহায়তা করেন।
- 🔒 পদের মর্যাদা ও যোগ্যতা: সুপ্রিম
কোর্টের একজন বিচারক হওয়ার জন্য যে সমস্ত যোগ্যতা প্রয়োজন, এটর্নি জেনারেলের ঠিক সমপরিমাণ যোগ্যতা থাকতে হয়। তিনি রাষ্ট্রপতির
সন্তোষানুযায়ী সময় পর্যন্ত পদে বহাল থাকেন।
🎯 উপসংহার:
এটর্নি
জেনারেল কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তি নন, তিনি রাষ্ট্রের
আইন কর্মকর্তা। সরকারের ভুল আইনি পদক্ষেপ সংশোধন করা এবং আদালতে রাষ্ট্রের পক্ষে
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
🗳️ ৮। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা কর।
✨ ভূমিকা:
একটি
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার
পরিবর্তনের একমাত্র মাধ্যম হলো নির্বাচন। আর এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য গঠিত স্বাধীন সাংবিধানিক
প্রতিষ্ঠান হলো 'বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন' (Election
Commission)।
🟢 নির্বাচন কমিশনের গঠন:
সংবিধানের
১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন প্রধান নির্বাচন
কমিশনার (CEC) এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারের সমন্বয়ে
কমিশন গঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী তাদের ৫ বছরের জন্য নিয়োগ দেন।
[Image showing
the operational structure of an Election Commission handling voter
registration, ballot management, and polling oversight]
🔸 নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- 🗳️ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও
হালনাগাদকরণ: দেশের প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব) নাগরিকদের নাম
অন্তর্ভুক্ত করে একটি নিখুঁত ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা এবং প্রতি বছর
তা হালনাগাদ করা কমিশনের অন্যতম প্রধান কাজ।
- 🏛️ জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
পরিচালনা: জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের সাধারণ নির্বাচন, সংরক্ষিত
আসনের নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন আইন মোতাবেক সুনির্দিষ্ট সময়ের
মধ্যে আয়োজন ও পরিচালনা করা।
- 🗺️ নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণ: দেশের
জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ৩০০টি সংসদীয়
আসনের ভৌগোলিক সীমানা পুনঃনির্ধারণ (Delimitation) করা।
- 🚩 রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও
প্রতীক বরাদ্দ: নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে বিধি অনুযায়ী
নিবন্ধন দেওয়া এবং দলগুলোর জন্য অনন্য নির্বাচনী প্রতীক (যেমন- নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল) বরাদ্দ করা।
- 👮 আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আচরণবিধি
প্রয়োগ: নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে পুরো সমন ও প্রশাসন নির্বাচন
কমিশনের অধীনে চলে যায়। কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধি (Code of Conduct) ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, প্রার্থিতা
বাতিল বা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।
🎯 উপসংহার:
নির্বাচন
কমিশন হলো গণতন্ত্রের পাহারাদার। একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, তা নির্ভর করে তার নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও শক্ত ভূমিকার ওপর। তাই সব
ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে মেরুদণ্ড সোজা রেখে কাজ করাই এই কমিশনের মূল
দায়িত্ব।
💼 ৯। বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশনের লোক নিয়োগ পদ্ধতি আলোচনা কর।
✨ ভূমিকা:
বাংলাদেশ
সরকারি কর্মকমিশন (BPSC) প্রিলিমিনারি, লিখিত
এবং ভাইভা পরীক্ষার একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
প্রজাতন্ত্রের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ
দিয়ে থাকে।
📋 বিপিএসসির লোক নিয়োগের ধারাবাহিক পদ্ধতিসমূহ:
- 📢 বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ (Advertisement):
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শূন্য পদের চাহিদা পাওয়ার পর
বিপিএসসি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটে (যেমন- বিসিএস
পরীক্ষার) বিস্তারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স উল্লেখ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ করে।
- 📝 প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (Preliminary
Test): লাখ লাখ প্রার্থীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য
২০০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে প্রিলিমিনারি
পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের ওপর
প্রশ্ন থাকে।
- ✍️ লিখিত পরীক্ষা (Written
Examination): প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়ে ৯০০
নম্বরের (ক্যাডার ভেদে ভিন্ন হতে পারে) বিস্তারিত লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
প্রার্থীর গভীর জ্ঞান ও মননশীলতা যাচাইয়ের জন্য এই ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- 🗣️ মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা (Viva-Voce):
লিখিত পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের মৌখিক
পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এখানে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং
সাধারণ জ্ঞান মূল্যায়ন করা হয়।
- 🩺 স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ
ভেরিফিকেশন: ভাইভায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সরকারি মেডিকেল
বোর্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
মাধ্যমে তাদের দেশপ্রেম ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন করা
হয়।
- ⚖️ চূড়ান্ত সুপারিশ (Final
Recommendation): সকল ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধা তালিকা
এবং সরকারের প্রচলিত কোটা নীতি অনুসরণ করে বিপিএসসি চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য
সরকারের কাছে সুপারিশ তালিকা পাঠায়। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাদের
নিয়োগপত্র ইস্যু করে।
🎯 উপসংহার:
বিপিএসসির
নিয়োগ পদ্ধতি দীর্ঘ হলেও এর মূল লক্ষ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের সেরা
জনশক্তিকে প্রশাসনের মূল ধারায় নিয়ে আসা, যা একটি দক্ষ
আমলাতন্ত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
⚖️ ১০। বাংলাদেশে আইন
ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার সম্পর্ক আলোচনা কর।
✨ ভূমিকা:
সরকারের
তিনটি অঙ্গের মধ্যে আইন বিভাগ (জাতীয় সংসদ) এবং নির্বাহী বা শাসন বিভাগ
(প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভা) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ যেহেতু একটি সংসদীয়
বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত রাষ্ট্র, তাই এখানে আইন ও নির্বাহী
বিভাগের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
🤝 আইন ও নির্বাহী বিভাগের পারস্পরিক সম্পর্ক:
- 👔 নির্বাহী বিভাগের উৎপত্তি
আইনসভা থেকে: বাংলাদেশের শাসন বা নির্বাহী বিভাগের প্রধান (প্রধানমন্ত্রী)
এবং তাঁর মন্ত্রীসভার অন্তত ৯০% সদস্যকে বাধ্যতামূলকভাবে আইনসভার (সংসদ)
সদস্য হতে হয়। অর্থাৎ, সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই
সরকারের জন্ম হয়।
- 👥 সংসদের কাছে নির্বাহী
বিভাগের জবাবদিহিতা: সংবিধানের ৫৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভা তাদের সকল কাজের জন্য যৌথভাবে জাতীয়
সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। সংসদ যদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করে,
তবে সরকারের পতন ঘটে।
- 📜 আইন প্রণয়নে পারস্পরিক
সহযোগিতা: দেশে যেকোনো নতুন আইন পাস করতে হলে তা সংসদে উত্থাপন করতে হয়।
নির্বাহী বিভাগের মন্ত্রীরাই বেশিরভাগ বিল (সরকারি বিল) সংসদে পেশ করেন এবং
সংসদ সদস্যদের অধিকাংশের ভোটে তা পাস হয়।
- 💰 আর্থিক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের
দেশ চালানোর জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হয় (বাজেট), তা
সংসদের অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী বিভাগ এক টাকাও খরচ করতে পারে পারে না। সংসদই
ট্যাক্স বা কর আরোপের অনুমোদন দেয়।
🎯 উপসংহার:
তাত্ত্বিকভাবে
আইন বিভাগ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা থাকলেও, বাস্তবে দলীয় একনায়কত্ব ও ৭০ অনুচ্ছেদের কঠোরতার কারণে বাংলাদেশে
নির্বাহী বিভাগই আইন বিভাগের ওপর শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
📜 ১১। দ্বাদশ সংশোধনের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
✨ ভূমিকা:
১৯৭৫
সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে যে একদলীয় রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা
চালু হয়েছিল, তার দীর্ঘ ১৬ বছর পর ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট
জাতীয় সংসদে ঐতিহাসিক 'দ্বাদশ সংশোধনী আইন' পাস হয়। এর মাধ্যমে দেশে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্রের শুভ সূচনা হয়।
🟢 দ্বাদশ সংশোধনীর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- 🇬🇧 মন্ত্রীপরিষদ
শাসিত সরকারের পুনরুজ্জীবন: এই সংশোধনীর প্রধানতম লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী
রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার
ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী হন দেশের প্রকৃত নির্বাহী
ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।
- 👤 অলঙ্কারিক রাষ্ট্রপ্রধান
হিসেবে রাষ্ট্রপতি: রাষ্ট্রপতিকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারীর পরিবর্তে নামমাত্র
বা অলঙ্কারিক রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া
অন্য সকল কাজে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়া রাষ্ট্রপতির জন্য বাধ্যতামূলক
করা হয়।
- ❌ উপ-রাষ্ট্রপতি পদের বিলুপ্তি: রাষ্ট্রপতি
শাসিত আমলের উপ-রাষ্ট্রপতির (Vice President) পদটি এই
সংশোধনীর মাধ্যমে চিরতরে বিলুপ্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার
সাময়িকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে বিধান রাখা হয়।
- 🔒 দলত্যাগ বিরোধী ৭০ অনুচ্ছেদ
শক্তিশালীকরণ: সংসদীয় ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এবং সংসদ সদস্যদের দল
বদল বা 'ফ্লোর ক্রসিং' (Floor Crossing) রুখতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে আরও কঠোর করা হয়।
🎯 উপসংহার:
দ্বাদশ
সংশোধনী ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা বা মুক্তির সনদ, যা স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও
জনগণের ভোটাধিকারের মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছিল।
🛡️ ১২। বাংলাদেশের সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারগুলোর বর্ণনা দাও।
✨ ভূমিকা:
সংবিধানের
তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭) বাংলাদেশের নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ, সামাজিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রের শোষণ থেকে সুরক্ষার জন্য ১৮টি মৌলিক
অধিকারের (Fundamental Rights) গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে,
যা লঙ্ঘিত হলে নাগরিকরা সুপ্রিম কোর্টের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট
মামলা করতে পারেন।
[Image showing
basic human rights principles like freedom of speech, equality before law, and
right to protection]
🔸 প্রধান প্রধান মৌলিক অধিকারগুলোর বিবরণ:
- ⚖️ আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭): বাংলাদেশের
সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। ধর্ম,
বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের কারণে
রাষ্ট্র কারো প্রতি কোনো বৈষম্য করতে পারবে না।
- 🛡️ জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার
অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২): আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো ব্যক্তির জীবন বা ব্যক্তিগত
স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না। প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার অলঙ্ঘনীয়।
- 🏢 চলাফেরা ও সমাবেশের
স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬ ও ৩৭): জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত
বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে, দেশের অভ্যন্তরে যেকোনো স্থানে
অবাধে চলাফেরা ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ বা মিছিল করার অধিকার প্রতি নাগরিকের
রয়েছে।
- 🗣️ চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯): প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা ও
বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও
কথা বলার বা মত প্রকাশের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।
- 🕌 ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ
৪১): প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন ও
প্রচার করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে তাদের নিজস্ব
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বাধা দেওয়া যাবে না।
🎯 উপসংহার:
সংবিধানে
প্রদত্ত এই মৌলিক অধিকারগুলোই একজন নাগরিককে স্বাধীন রাষ্ট্রে মর্যাদার সাথে বেঁচে
থাকার আইনি সুরক্ষা দেয়। জরুরি অবস্থা ছাড়া এই অধিকারগুলো কোনোভাবেই খর্ব করা যায়
না।
✍️ ১৩। বাংলাদেশের
সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
✨ ভূমিকা:
একটি
সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য মাত্র ১০ মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বমানের লিখিত
সংবিধান তৈরি করা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম এক জাঁকজমকপূর্ণ ও ঐতিহাসিক
সাফল্য।
📋 সংবিধান প্রণয়নের ধারাবাহিক ঐতিহাসিক ধাপসমূহ:
- 📜 অস্থায়ী সংবিধান আদেশ ১৯৭২: ১৯৭১
সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পর, ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন।
- 🏛️ গণপরিষদ গঠন ও প্রথম বৈঠক: ১৯৭২
সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ' জারির মাধ্যমে ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের নিয়ে গণপরিষদ গঠিত
হয়। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- ✍️ খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি: গণপরিষদের
দ্বিতীয় বৈঠকে দেশের তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে প্রধান বা সভাপতি
করে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি'
গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া
বানু এবং একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- 🔎 তথ্য সংগ্রহ ও জনমত যাচাই: কমিটি
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল সংবিধানগুলো পর্যালোচনা করে এবং দেশের সাধারণ
মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য লিখিত পরামর্শ আহ্বান করে। তারা প্রায় ৯৮টি বৈঠক
করে সংবিধানের খসড়া চূড়ান্ত করেন।
- 🗳️ গণপরিষদে উত্থাপন ও গ্রহণ: ১৯৭২
সালের ১২ অক্টোবর ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধানটি বিল আকারে গণপরিষদে উত্থাপন
করেন। বিস্তারিত আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শেষে ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে এই
সংবিধান সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
🎯 উপসংহার:
অবশেষে
১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বিজয়ের প্রথম বার্ষিকীতে এই
পবিত্র সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। অত্যন্ত অল্প সময়ে এমন সুনিপুণ
সংবিধান তৈরি করা বাঙালি জাতির এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়।
🔄 ১৪। বাংলাদেশ সংবিধানের উল্লেখযোগ্য সংশোধনীসমূহ আলোচনা কর।
✨ ভূমিকা:
বাংলাদেশ
সংবিধান একটি অনমনীয় দলিল হলেও বিগত ৫ দশকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে সংবিধানে মোট ১৭টি
সংশোধনী আনা হয়েছে।
🟢 উল্লেখযোগ্য প্রধান প্রধান সংশোধনীসমূহ:
- ⚖️ প্রথম সংশোধনী (১৯৭৩): এই সংশোধনীর
মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধী
এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার ও শাস্তির আইনি
নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
- 🪖 চতুর্থ সংশোধনী
(১৯৭৫): এটি ছিল সংবিধানের আমূল পরিবর্তন। এর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা বাতিল
করে একদলীয় (বাকশাল) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়।
- 🏛️ দ্বাদশ সংশোধনী (১৯৯১): দীর্ঘ
স্বৈরাচারী শাসনের পর এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার
অবসান ঘটিয়ে পুনরায় বহুদলীয় সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা
ফিরিয়ে আনা হয়।
- 🗳️ ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬): জাতীয়
নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে অবদলীয় ও নিরপেক্ষ 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' (Caretaker Government) সংবিধানে প্রবর্তন করা হয়।
- 🔒 পঞ্চদশ সংশোধনী (২০১১): সুপ্রিম
কোর্টের রায়ের পরিপ্রক্ষিতে এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
বাতিল করা হয়, বাহাত্তরের মূল চার রাষ্ট্রীয় নীতি
ফিরিয়ে আনা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির পিতা'
হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
🎯 উপসংহার:
সংবিধানের
এই সংশোধনীগুলোর কোনোটি দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করেছে (যেমন- দ্বাদশ), আবার কোনোটি রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে (যেমন- তত্ত্বাবধায়ক সরকার
বাতিল)।
🏛️ ১৫। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির তাৎপর্য সংক্ষেপে লিখ।
✨ ভূমিকা:
সংবিধানের
দ্বিতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ৮ থেকে ২৫) বর্ণিত 'রাষ্ট্র পরিচালনার
মূলনীতিসমূহ' (Fundamental Principles of State Policy) হলো
মূলত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির আদর্শিক চরিত্র, লক্ষ্য ও
দর্শনের বহিঃপ্রকাশ।
🧱 মূলনীতিসমূহের প্রধান তাৎপর্য ও গুরুত্ব:
- 📜 আইন ও নীতি প্রণয়নের
গাইডলাইন: সংবিধানের ৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র
যখনই কোনো নতুন আইন বা দীর্ঘমেয়াদি নীতি (যেমন- শিক্ষানীতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা) তৈরি করবে, তখন এই
মূলনীতিগুলোকে আদর্শ বা গাইডলাইন হিসেবে সামনে রাখতে হবে।
- ⚖️ আদালতের জন্য ব্যাখ্যামূলক ভিত্তি: যদিও
এই মূলনীতিগুলো লঙ্ঘিত হলে নাগরিকরা সরাসরি আদালতে মামলা করতে পারেন না
(আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়), তবুও সংবিধানের
অন্যান্য জটিল ধারার সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানের সময় বিচারকগণ এই মূলনীতিগুলোর
সাহায্য নেন।
- 🌾 কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠন: অনুচ্ছেদ
১৫ ও ১৬ অনুযায়ী— নাগরিকদের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা
পূরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে
একটি বৈষম্যহীন 'কল্যাণকামী রাষ্ট্র' (Welfare
State) গড়ার দিকনির্দেশনা এই নীতিগুলো দেয়।
- 🕊️ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের
ভিত্তি: সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মূলনীতিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি— "সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।" এটি বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের
প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করে।
🎯 উপসংহার:
সংক্ষেপে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো হলো একটি ন্যায়পরায়ণ, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত প্রগতিশীল সমাজ গঠনের মূল চালিকাশক্তি ও
রাষ্ট্রীয় দর্শন। এগুলোকে বাস্তবায়ন করাই হলো রাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
SEO Keywords
বাংলাদেশের সংবিধান এবং সরকার 411911411911 suggestion pdfরাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ২০২৬Bangladesh Constitution and GovernmentNU Masters Preliminary SuggestionMasters Final Suggestion PDFবাংলাদেশ সংবিধান প্রশ্নোত্তরPolitical Science Suggestion 2026জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাজেশনConstitution and Government of Bangladesh PDF
📌 Prepared
By: Md. Alamin Hossain
📧 Email: alaminttg@gmail.com
🌐 Website:
Alamin Online
Academy Blog
▶️ YouTube
Channel: Alamin Online
Academy
👥 Facebook
Group: Alamin Academy
Suggestion Group
📘 Facebook
Page: Alamin Academy
Official Page
📸 Instagram:
Alamin Academy
Instagram


